![]() |
এটি কুরআনের প্রসিদ্ধ এবং সুন্দরতম সূরাগুলোর একটি। এই সূরায় উল্লেখযোগ্য পরিমানে পুনরাবৃত্তি রয়েছে। চলুন, সবার আগে এই পুনরাবৃত্তি নিয়ে কথা বলি। সবচেয়ে অনন্য এবং লক্ষণীয় ব্যাপার হলো ''ফাবি আইয়ি আলা ইরাব্বিকু মা তুকাজ্জিবান" এই আয়াতের পুনরাবৃত্তি। অর্থাৎ তোমরা উভয়ে আল্লাহর আর কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে। এখানে তোমরা উভয় বলতে জীন এবং মানবজাতি উভয়কে বুঝানো হয়েছে।
সবাইকে আবারো সালাম জানাচ্ছি, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওবারাকাতুহ। চলুন, সূরা আর রাহমান সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
সূরা আর-রাহমান এর তাত্ত্বিক পরিচিতি। --নোমান আলী খান
এই সূরার আরেকটি অনুপম বৈশিষ্ট্য হলো, এতে জীন এবং মানবজাতি উভয়কে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আল্লাহ এই সূরায় অসাধারণভাবে এই ব্যাপারটা তুলে ধরেছেন। এই সূরায় সবকিছু যুগ্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, মানুষ এক প্রজাতির যুগল, জান্নাতের বর্ণনাও যুগ্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তিনি বাগানের কথা দুইবার বলেছেন। এভাবে বিস্তীর্ণরুপে দ্বৈত প্রসঙ্গের ব্যাপারটা অগ্রসর হয়েছে।পুনরাবৃত্তি সম্পর্কে প্রথমে আমি যা বলতে চাই, পুনরাবৃত্তি করা হয় একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। শুধু বক্তব্য পেশের ধরণ বা কোনো কিছুকে জোর দেয়ার উদ্দেশ্যেই নয়, বরং এর বৃহত্তর আলঙ্কারিক এবং যোগাযোগমূলক উদ্দেশ্যও রয়েছে। আর সেই উদ্দেশ্যটি হলো- ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। "তোমরা আর কত অকৃতজ্ঞ হবে? তোমরা আর কত অকৃতজ্ঞ হবে? তোমরা আর কত অকৃতজ্ঞ হবে?" আল্লাহর রাগ প্রকাশের এই ক্রম অগ্রসরতা সেই সমস্ত লোকদের প্রতি যারা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার ধারণাকে অস্বীকার করে, যারা তাদের চারপাশে তাকিয়ে দেখে না, তাদেরকে প্রদত্ত অগণিত নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ হওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না।
এভাবেই আয়াতগুলো অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু এরপর সেই একই বাক্যাংশ ব্যবহার করা হয়েছে সূরার শেষ অংশেও, যেখানে আল্লাহ জান্নাত এবং জান্নাতের মানুষদের নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। তাদেরকে তিনি একটি করে উপহার প্রদান করছেন আর বলছেন- তোমরা আর কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? তোমরা আর কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে? তিনি তাদের উপর তাঁর রহমত বর্ষণ করার ব্যাপারটি তুলে ধরেন শুধু এই দুনিয়ায় নয় বরং পরকালেও।
যেখানে সূরার প্রথম অংশ থেকে এই বাক্যটি ধীরে ধীরে তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ লাভ করে, সূরার শেষের দিকে এসে এই তীব্রতা কমতে থাকে, কোমল হতে থাকে এবং আল্লাহর ভালোবাসা প্রকাশে বাক্যটি আরও বেশি ভালোবাসাপূর্ণ হয়ে উঠে। এটি এই সূরার অসাধারণ সৌন্দর্য্যমন্ডিত স্বর এবং গঠন বিন্যাসের অংশ।
এই সূরার বিষয়বস্তুকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। বলতে পারেন, এই সূরায় পাঁচটি স্বতন্ত্র বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়েছে।
এই সূরার বিষয়বস্তুকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। বলতে পারেন, এই সূরায় পাঁচটি স্বতন্ত্র বিষয়বস্তু আলোচনা করা হয়েছে।
প্রথমটি হলো- আল্লাহ কর্তৃক কুরআন শিক্ষাদানের মহান উপহার। 'আর রাহমান, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন।' এটাই হলো প্রথম মূল বিষয়বস্তু। এবং কুরআন কিভাবে মানুষের প্রকৃতির যত্ন নিয়ে থাকে এবং কিভাবে তাদের নিজস্বতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। কীভাবে এই শিক্ষাদান আল্লাহর দয়া, যত্ন এবং ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। এ জন্য কুরআন শিক্ষা দানের বিষয়টাকে 'আর রাহমান' দিয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এটা বলা হয়নি যে 'আল আলিইমু আল্লামাল কুরআন' যিনি সব কিছু জানেন তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। বরং আল্লাহ বলেছেন যিনি কল্পনাতীতভাবে দয়ালু, যত্নবান এবং ভালোবাসাপূর্ণ তিনিই কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন।
সুতরাং আল্লাহর কুরআন শিক্ষা দানের কাজটি তাঁর একটি ভালোবাসাপূর্ণ, কল্যাণকামী এবং মমতাময়ী কাজ। এটা হলো প্রথম বিষয়।
যারা এই কিতাবের বিস্ময়কে স্বীকার করে না, তারা এমন মানুষ যারা কোনো কিছুর বিস্ময়কেই স্বীকার করে না। তারা তাদের চারপাশের আশ্চর্যসব ব্যাপারের তারিফ করে না। তাই তিনি আমাদের চারপাশের আশ্চর্যসব বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করতে লাগলেন। যেমন- চাঁদ এবং সূর্যের সৃষ্টি। الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ - وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ - নক্ষত্র এবং গাছপালার সৃষ্টি। এগুলো বিশেষ করে আরবদের জন্য উপযোগী। যেহেতু, তাদের চারপাশে প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য ছিল না, তাই আরবরা অন্তত রাত্রি বেলা অগণিত অসংখ্য তারায় পরিপূর্ণ এক আকাশের তারিফ করতে পারতো। আর দিনের বেলায় মরুভূমিতে কেবলমাত্র একটা গাছ দেখতে পেলেই এটা তাদের জন্য হত সৌন্দর্যের একটা প্রতীক। তাই তিনি এমন সব জিনিসের কথা বলছেন যা তারা সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখত, যেন তারা এগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে এবং উপলব্ধি করতে পারে।
তিনি কথা বলেন সমদ্র এবং সমুদ্র থেকে পাওয়া মনিমুক্তা নিয়ে, কিভাবে সাগরের বুকে জাহাজ ভেসে বেড়ায়। তারপর তিনি বলেন, সব মানুষই তাঁর উপর নির্ভরশীল। তো, আল্লাহর এইসব দুনিয়াবি উপহারগুলো হল দ্বিতীয় বিষয়বস্তু। প্রথম বিষয়বস্তু ছিল আল্লাহর স্বর্গীয় উপহার অর্থাৎ কুরআন।
সুতরাং আল্লাহর কুরআন শিক্ষা দানের কাজটি তাঁর একটি ভালোবাসাপূর্ণ, কল্যাণকামী এবং মমতাময়ী কাজ। এটা হলো প্রথম বিষয়।
যারা এই কিতাবের বিস্ময়কে স্বীকার করে না, তারা এমন মানুষ যারা কোনো কিছুর বিস্ময়কেই স্বীকার করে না। তারা তাদের চারপাশের আশ্চর্যসব ব্যাপারের তারিফ করে না। তাই তিনি আমাদের চারপাশের আশ্চর্যসব বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করতে লাগলেন। যেমন- চাঁদ এবং সূর্যের সৃষ্টি। الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ - وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ - নক্ষত্র এবং গাছপালার সৃষ্টি। এগুলো বিশেষ করে আরবদের জন্য উপযোগী। যেহেতু, তাদের চারপাশে প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য ছিল না, তাই আরবরা অন্তত রাত্রি বেলা অগণিত অসংখ্য তারায় পরিপূর্ণ এক আকাশের তারিফ করতে পারতো। আর দিনের বেলায় মরুভূমিতে কেবলমাত্র একটা গাছ দেখতে পেলেই এটা তাদের জন্য হত সৌন্দর্যের একটা প্রতীক। তাই তিনি এমন সব জিনিসের কথা বলছেন যা তারা সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখত, যেন তারা এগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে এবং উপলব্ধি করতে পারে।
তিনি কথা বলেন সমদ্র এবং সমুদ্র থেকে পাওয়া মনিমুক্তা নিয়ে, কিভাবে সাগরের বুকে জাহাজ ভেসে বেড়ায়। তারপর তিনি বলেন, সব মানুষই তাঁর উপর নির্ভরশীল। তো, আল্লাহর এইসব দুনিয়াবি উপহারগুলো হল দ্বিতীয় বিষয়বস্তু। প্রথম বিষয়বস্তু ছিল আল্লাহর স্বর্গীয় উপহার অর্থাৎ কুরআন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি দুনিয়াবি উপহারসমূহ নিয়ে যা কিনা মানুষ অবজ্ঞা করে আসছে। এগুলো আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে যেন আমরা চিন্তা-ভাবনা করতে পারি।
কল্পনা করুন, একটা ভয়াবহ বিপদ এগিয়ে আসছে আর আপনি এটাকে একটা তামাশা হিসেবে নিচ্ছেন। তখন এটা মোকাবেলার জন্য আপনার কোনো প্রস্তুতি থাকে না। এমনকি আপনি এমন অবস্থানেও থাকেন না যে, নিজেকে এর থেকে রক্ষা করবেন। এর জন্য যথাযথ প্রস্তুতিও আপনার নেই। এর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য আপনার নেই কোন অস্ত্র।
এই সূরাতে আমাদেরকে চরমভাবে ভয় প্রদান করাই আল্লাহর উপহার। আমাদেরকে আতঙ্কিত করে দেয়ার পর, এখন জান্নাতের বর্ণনা দেয়া শুরু হল। আর যেভাবে এটা শুরু হয়েছে তা এত চমৎকার! "ওয়ালিমান খফা মাক্বমা রব্বিহি জান্নাতান" "আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত"। অন্য কথায়, প্রথমে তিনি আপনাকে ভয় দেখান। তারপর তিনি বলছেন, তুমি যদি ভয় পেয়ে থাকো তোমার জন্য আছে জান্নাত। সুবাহানাল্লাহ! এটা এত অসাধারণ যে, যদিও তিনি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছেন, কিন্তু তিনি এটা করছেন আরও বৃহত্তর মহান একটা উদ্দেশ্যে। আর তা হল, আপনাকে জান্নাত প্রদান করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতবাসী করুন।
এখন, এই সূরার একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে জান্নাতের বর্ণনা দুটি অংশে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আরও একবার আমি বলছি, প্রথম অংশটা ছিল কুরআন নাযিলের মহিমা বর্ণনা, দ্বিতীয় অংশে ছিল আল্লাহর দেয়া দুনিয়াবি উপহার গুলোর মহিমা বর্ণনা। তৃতীয়ত, যারা আল্লাহর এ সকল বর্ণনাকৃত বিষয়গুলোকে অস্বীকার করত তাদের পরিনাম সম্পর্কে, এরপর বিচারদিবস এবং তারপর জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া। আর তারপর যারা এই সতর্কবানী শুনে ভয় পায় তাদের জন্য রয়েছে দুটি বাগান। তারপর বাগানের বর্ণনা দেয়া শুরু হয়। চমৎকার সব ফল, স্ত্রীগণ, ঘরবাড়ি, ঝর্ণাধারা এবং এ সব কিছু। আর তারপর " ওয়ামিং দুনিহিমা.. " এগুলো ছাড়াও আরও বাগান আছে। এবং আরও দুটি বাগানের বর্ণনা দেয়া হয়। এটা একটু অদ্ভুত। তাই না? কেন জান্নাতের শুধুমাত্র একটা বর্ণনাই দেয়া হল না? কেন এটাকে দুটি অংশে ভাগ করে বর্ণনা করা হয়েছে? আবারও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় রকমের সবুজ, অবিরত প্রবাহমান ঝর্ণা, এবং আছে আনার ও খেজুর। "নাখলু ওয়া রুম্মান।"
তারপর আবারও বলা হয়েছে সুন্দরী স্ত্রীগণের কথা, আসনে হেলান দেয়া অবস্থায় "রফরফিন খুদরিওয়া আবক্বরিয়্যিন হিসান"। আকর্ষণীয় সব উপকরণসমূহ যা রয়েছে তাদের চারপাশে, আমদানি করা পন্যের মত। ঘর সাজানোর জন্য চমৎকার সব পন্য। এটা হচ্ছে দ্বিতীয় জান্নাতের বর্ণনা। যদি এই সূরায় আলোচিত বিষয়বস্তুগুলোর বিন্যাসের তারিফ করতে পারেন ১, ২, ৩, ৪, ৫।
১।কুরআন,
বিশ্বাসীদের মধ্যে সেরা এই মানুষগুলোই একমাত্র দল নয়। এছাড়াও আছে ভালো মানুষেরা, অর্থাৎ যে কেউ তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে। সুতরাং ভালো মানুষদের দুটি ধাপ রয়েছে। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা দেখেছি সূরাতুর রহমানে দুটি জান্নাতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। দুটি ভিন্ন প্রকারের জান্নাতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এটা সুসংগঠিত করার একটা প্রক্রিয়া এবং এভাবেই কুরআন তার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে। কিভাবে বিষয়গুলো একটার সাথে অন্যটা গাঁথা হয় এই অসাধারণ চমৎকার বইটিতে!
সূরাতুর রহমান মুখস্ত করার জন্য খুব সহজ একটি সূরা। বিশেষত যদি আপনি এর বিষয়গুলোর ক্রমবিন্যাসের ধারাটি বুঝতে পারেন। ইনশাআল্লাহ, এটা মুখস্ত করতে এবং এর অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে আপনাদের জন্য কোন সমস্যা হবে না। বারাকাল্লাহু লিওয়ালাকুম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদটি মূলত বিচার দিবস নিয়ে। যেদিন তিনি মানুষ এবং জ্বীন জাতিকে একত্রিত করবেন। "সানাফরুগু লাকুম আইয়্যু হাছ্ছাক্বলান"। বিশাল জমায়েত ও দুটি বিপুল গোষ্ঠীকে তিনি একত্রে উপস্থিত করবেন। বিচারদিবস শুরু হয়ে গেছে। আকাশ বিদীর্ণ হয়ে পড়ছে, জলন্ত কয়লা ও অঙ্গার ঝরে পড়ছে, পৃথিবী চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, এসব মহাপ্রলয় ঘটছে এবং এগুলোরই বর্ণনা দেয়া হয়েছে। অপরাধীরা ছুটে পালাচ্ছে। আর তাদেরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেসও করতে হচ্ছে না। তাদেরকে চেনা যাবে তাদের চেহারার চিহ্ন এবং তাদের অবস্থা দেখে। অত:পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হবে আর অপরাধীদেরকে টেনে হিচড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।
এটা এ সূরার অত্যন্ত ভয়ংকর একটি চিত্র যা অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা জাগায় যে, তাহলে এ সূরা আল্লাহর নাম 'আর-রাহমান' দিয়ে কিভাবে শুরু হয়-- যিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, যত্নশীল এবং পরম দয়ালু। আর সূরার মাঝখানে নরকের এমন ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে? এমনটা কেন হবে? এটা আসলে আল্লাহর অপার করুণা বর্ণনার একটা অংশ। কেন? কারণ, আপনি এটা পছন্দ করেন বা না করেন, জাহান্নাম বর্তমান আছে। তাই, আগে থেকেই শব্দের মাধ্যমে এর সম্পর্কে শুনে রাখা উত্তম, যেন পরবর্তীতে আমাকে আর এটা স্বচক্ষে দেখতে না হয়। এটা আসলে আল্লাহর দেয়া একটা উপহার। আমাদের পূর্বেকার যে মানুষদের কিতাব দেয়া হয়েছিল (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা) তাদের অনেকেই জাহান্নামের ভয়াবহতার ধারণাটি হারিয়ে ফেলেছে। তারা এটা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ তাদের কিতাব থেকে জাহান্নামের সম্পূর্ণ উল্লেখ-ই মুছে দিয়েছিল। মুসলিমদের জন্য জাহান্নাম কোন ঠাট্টার বিষয় নয়। কারণ, আল্লাহ এটা হতে দেন না। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এবং এটা আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা উপহার।
এটা এ সূরার অত্যন্ত ভয়ংকর একটি চিত্র যা অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা জাগায় যে, তাহলে এ সূরা আল্লাহর নাম 'আর-রাহমান' দিয়ে কিভাবে শুরু হয়-- যিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, যত্নশীল এবং পরম দয়ালু। আর সূরার মাঝখানে নরকের এমন ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে? এমনটা কেন হবে? এটা আসলে আল্লাহর অপার করুণা বর্ণনার একটা অংশ। কেন? কারণ, আপনি এটা পছন্দ করেন বা না করেন, জাহান্নাম বর্তমান আছে। তাই, আগে থেকেই শব্দের মাধ্যমে এর সম্পর্কে শুনে রাখা উত্তম, যেন পরবর্তীতে আমাকে আর এটা স্বচক্ষে দেখতে না হয়। এটা আসলে আল্লাহর দেয়া একটা উপহার। আমাদের পূর্বেকার যে মানুষদের কিতাব দেয়া হয়েছিল (ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরা) তাদের অনেকেই জাহান্নামের ভয়াবহতার ধারণাটি হারিয়ে ফেলেছে। তারা এটা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করে। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ তাদের কিতাব থেকে জাহান্নামের সম্পূর্ণ উল্লেখ-ই মুছে দিয়েছিল। মুসলিমদের জন্য জাহান্নাম কোন ঠাট্টার বিষয় নয়। কারণ, আল্লাহ এটা হতে দেন না। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এবং এটা আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা উপহার।
কল্পনা করুন, একটা ভয়াবহ বিপদ এগিয়ে আসছে আর আপনি এটাকে একটা তামাশা হিসেবে নিচ্ছেন। তখন এটা মোকাবেলার জন্য আপনার কোনো প্রস্তুতি থাকে না। এমনকি আপনি এমন অবস্থানেও থাকেন না যে, নিজেকে এর থেকে রক্ষা করবেন। এর জন্য যথাযথ প্রস্তুতিও আপনার নেই। এর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য আপনার নেই কোন অস্ত্র।
এই সূরাতে আমাদেরকে চরমভাবে ভয় প্রদান করাই আল্লাহর উপহার। আমাদেরকে আতঙ্কিত করে দেয়ার পর, এখন জান্নাতের বর্ণনা দেয়া শুরু হল। আর যেভাবে এটা শুরু হয়েছে তা এত চমৎকার! "ওয়ালিমান খফা মাক্বমা রব্বিহি জান্নাতান" "আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াতে ভয় করে তার জন্য রয়েছে দুটি জান্নাত"। অন্য কথায়, প্রথমে তিনি আপনাকে ভয় দেখান। তারপর তিনি বলছেন, তুমি যদি ভয় পেয়ে থাকো তোমার জন্য আছে জান্নাত। সুবাহানাল্লাহ! এটা এত অসাধারণ যে, যদিও তিনি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছেন, কিন্তু তিনি এটা করছেন আরও বৃহত্তর মহান একটা উদ্দেশ্যে। আর তা হল, আপনাকে জান্নাত প্রদান করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে জান্নাতবাসী করুন।
এখন, এই সূরার একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে জান্নাতের বর্ণনা দুটি অংশে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আরও একবার আমি বলছি, প্রথম অংশটা ছিল কুরআন নাযিলের মহিমা বর্ণনা, দ্বিতীয় অংশে ছিল আল্লাহর দেয়া দুনিয়াবি উপহার গুলোর মহিমা বর্ণনা। তৃতীয়ত, যারা আল্লাহর এ সকল বর্ণনাকৃত বিষয়গুলোকে অস্বীকার করত তাদের পরিনাম সম্পর্কে, এরপর বিচারদিবস এবং তারপর জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়া। আর তারপর যারা এই সতর্কবানী শুনে ভয় পায় তাদের জন্য রয়েছে দুটি বাগান। তারপর বাগানের বর্ণনা দেয়া শুরু হয়। চমৎকার সব ফল, স্ত্রীগণ, ঘরবাড়ি, ঝর্ণাধারা এবং এ সব কিছু। আর তারপর " ওয়ামিং দুনিহিমা.. " এগুলো ছাড়াও আরও বাগান আছে। এবং আরও দুটি বাগানের বর্ণনা দেয়া হয়। এটা একটু অদ্ভুত। তাই না? কেন জান্নাতের শুধুমাত্র একটা বর্ণনাই দেয়া হল না? কেন এটাকে দুটি অংশে ভাগ করে বর্ণনা করা হয়েছে? আবারও বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় রকমের সবুজ, অবিরত প্রবাহমান ঝর্ণা, এবং আছে আনার ও খেজুর। "নাখলু ওয়া রুম্মান।"
তারপর আবারও বলা হয়েছে সুন্দরী স্ত্রীগণের কথা, আসনে হেলান দেয়া অবস্থায় "রফরফিন খুদরিওয়া আবক্বরিয়্যিন হিসান"। আকর্ষণীয় সব উপকরণসমূহ যা রয়েছে তাদের চারপাশে, আমদানি করা পন্যের মত। ঘর সাজানোর জন্য চমৎকার সব পন্য। এটা হচ্ছে দ্বিতীয় জান্নাতের বর্ণনা। যদি এই সূরায় আলোচিত বিষয়বস্তুগুলোর বিন্যাসের তারিফ করতে পারেন ১, ২, ৩, ৪, ৫।
১।কুরআন,
২।দুনিয়াবি উপহারসমূহ,
৩।বিচারদিবস এবং জাহান্নাম,
৪। প্রথম জান্নাত
৫। দ্বিতীয় জান্নাত।
এটাকে এভাবেও বলতে পারেন, পাঁচটি বিষয়। যখন এই বিস্ময়কর সূরাটিতে আলোচিত বিষয়বস্তুগুলোর বিন্যাস বুঝতে পারবেন... ঠিক পরেই যে সূরাটা এসেছে সেটা হচ্ছে সূরাতুল ওয়াকিয়া। আর সূরা ওয়াকিয়ায় এই পাঁচটি বিষয় উল্টো ক্রমে বর্ণনা করা হয়েছে।
সূরা ওয়াকিয়ায় সবশেষে যে বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে সর্বশেষ অংশে তা হল আয়াত- فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ- وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ- إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ কুরআনের মহত্ব সবার শেষে বর্ণনা করা হয়েছে সূরা ওয়াকিয়ায়। আর এটা ছিল এখানে প্রথম বিষয়। সূরা ওয়াকিয়ার উল্টোদিক থেকে আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেন, أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُونَ -أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ আল্লাহ্ জিজ্ঞেস করছেন- তোমরাই কি শস্য উৎপন্ন করো? তোমরাই কি আগুন সৃষ্টি করো? তোমরাই কি বৃষ্টি বর্ষণ করো? ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি এই প্রশ্নগুলো করতে থাকেন। আল্লাহ্ই এই কাজগুলো করেন। তবু তিনি জিজ্ঞেস করছেন, তোমরা কি এগুলোর কোনোটা করো? ওয়াকিয়ার শেষের দিক থেকে ২য় বিষয়বস্তুই সূরা আর-রাহমানের প্রথম দিক থেকে ২য় বিষয়বস্তু, দুনিয়াবি উপহার। ওয়াকিয়ায় তা প্রশ্নাকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আর সেখানের তৃতীয় মজার বিষয়টি হচ্ছে 'আসহাবুস শিমাল' দের নিয়ে। যেসব মানুষদের বাম হাতে আমালনামা দেয়া হবে এটা তাদের জন্য কুরআনের একটি পরিভাষা। যার মানে হল তারা অচিরেই বিপদে পতিত হবে, মূলত বিচারদিবসে। আর যদি লক্ষ্য করেন সূরাতুর রাহমানেও মাঝের তৃতীয় বিষয় হল, জাহান্নাম। তাই যাদেরকে তাদের আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে তারা ভয়ংকর বিচারের সম্মুখীন হবে। আর তাদেরকে কঠিনতম শাস্তি প্রদান করা হবে। সূরা ওয়াকিয়ার শুরুতে বলা হয়েছে মানুষের দুটি দল সম্পর্কে। আস সাবিকুনসাস সাবিকুন এবং আসহাবুল ইয়ামিন। এক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা। এবং দুই, আসহাবুল ইয়ামিন। প্রথম দলটি হবে বিশ্বাসীদের মধ্যে যাদের ঈমান সবচেয়ে বেশি তাদের, যারা সবার আগেই সবকিছু বিশ্বাস করেছিল, যারা ফলাফল নিয়ে চিন্তিত ছিল না এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল।
সূরা ওয়াকিয়ায় সবশেষে যে বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে সর্বশেষ অংশে তা হল আয়াত- فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ- وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ- إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ কুরআনের মহত্ব সবার শেষে বর্ণনা করা হয়েছে সূরা ওয়াকিয়ায়। আর এটা ছিল এখানে প্রথম বিষয়। সূরা ওয়াকিয়ার উল্টোদিক থেকে আল্লাহ জিজ্ঞেস করছেন, أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُونَ -أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ আল্লাহ্ জিজ্ঞেস করছেন- তোমরাই কি শস্য উৎপন্ন করো? তোমরাই কি আগুন সৃষ্টি করো? তোমরাই কি বৃষ্টি বর্ষণ করো? ইত্যাদি ইত্যাদি। তিনি এই প্রশ্নগুলো করতে থাকেন। আল্লাহ্ই এই কাজগুলো করেন। তবু তিনি জিজ্ঞেস করছেন, তোমরা কি এগুলোর কোনোটা করো? ওয়াকিয়ার শেষের দিক থেকে ২য় বিষয়বস্তুই সূরা আর-রাহমানের প্রথম দিক থেকে ২য় বিষয়বস্তু, দুনিয়াবি উপহার। ওয়াকিয়ায় তা প্রশ্নাকারে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আর সেখানের তৃতীয় মজার বিষয়টি হচ্ছে 'আসহাবুস শিমাল' দের নিয়ে। যেসব মানুষদের বাম হাতে আমালনামা দেয়া হবে এটা তাদের জন্য কুরআনের একটি পরিভাষা। যার মানে হল তারা অচিরেই বিপদে পতিত হবে, মূলত বিচারদিবসে। আর যদি লক্ষ্য করেন সূরাতুর রাহমানেও মাঝের তৃতীয় বিষয় হল, জাহান্নাম। তাই যাদেরকে তাদের আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে তারা ভয়ংকর বিচারের সম্মুখীন হবে। আর তাদেরকে কঠিনতম শাস্তি প্রদান করা হবে। সূরা ওয়াকিয়ার শুরুতে বলা হয়েছে মানুষের দুটি দল সম্পর্কে। আস সাবিকুনসাস সাবিকুন এবং আসহাবুল ইয়ামিন। এক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা। এবং দুই, আসহাবুল ইয়ামিন। প্রথম দলটি হবে বিশ্বাসীদের মধ্যে যাদের ঈমান সবচেয়ে বেশি তাদের, যারা সবার আগেই সবকিছু বিশ্বাস করেছিল, যারা ফলাফল নিয়ে চিন্তিত ছিল না এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল।
বিশ্বাসীদের মধ্যে সেরা এই মানুষগুলোই একমাত্র দল নয়। এছাড়াও আছে ভালো মানুষেরা, অর্থাৎ যে কেউ তার আমলনামা ডান হাতে গ্রহণ করবে। সুতরাং ভালো মানুষদের দুটি ধাপ রয়েছে। আর মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা দেখেছি সূরাতুর রহমানে দুটি জান্নাতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। দুটি ভিন্ন প্রকারের জান্নাতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এটা সুসংগঠিত করার একটা প্রক্রিয়া এবং এভাবেই কুরআন তার বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে থাকে। কিভাবে বিষয়গুলো একটার সাথে অন্যটা গাঁথা হয় এই অসাধারণ চমৎকার বইটিতে!
সূরাতুর রহমান মুখস্ত করার জন্য খুব সহজ একটি সূরা। বিশেষত যদি আপনি এর বিষয়গুলোর ক্রমবিন্যাসের ধারাটি বুঝতে পারেন। ইনশাআল্লাহ, এটা মুখস্ত করতে এবং এর অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে আপনাদের জন্য কোন সমস্যা হবে না। বারাকাল্লাহু লিওয়ালাকুম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
Source: Nak Bangla

إرسال تعليق